‘বাংলাদেশ এ্যাট এ ক্রসরোড’

তারেকের ৬ মাস : সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে বাংলাদেশ

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ৬:২৭ অপরাহ্ণ

 

বিশেষ সংবাদদাতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ১০০ দিনে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ৬০৫ বাংলাদেশী। প্রথম ৬ মাস অর্থাৎ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে আরো যুক্ত হয়েছে শতাধিক রাজনৈতিক নেতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। আর এসব হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে প্রকাশ্য রাজপথে অথবা নিজ ঘরের ভেতর কিংবা পুলিশ স্টেশনে। ক্ষমতাসীনদের অন্যায়-অপকর্মের সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদ করলেই বিএনপি-জামাত-শিবির-এনসিপির সন্ত্রাসের ভিকটিম হতে হচ্ছে। এমন একটি অসহনীয় পরিস্থিতির শিকার গোটা বাংলাদেশ। সাংবাদিকরাও্ বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশে সাহসী হচ্ছেন না আক্রান্তের ভয়ে।

ক্ষমতাসীনদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নিউ এ্যাজ-সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন এবং তা জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে বিলি করেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন, মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই, আইনের শাসন বলতে আওয়ামী লীগ নিধনকে বৈধতা দেয়া, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা, নারীকে ধর্ষণ এবং সপরিবারে হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার নির্লজ্জ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তথ্যের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে ।

বিশ্বব্যাংক এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চরম অবনতি, দারিদ্রতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে লাগামহীনভাবে, ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট অব্যাহত থাকার তথ্য দিয়েছে। ৯৫টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬১৮৮১ জন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিজিএমইএ’র তথ্য  অনুযায়ী চব্বিশের কথিত কোটা আন্দোলনের পর  সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ৪ শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)’র তথ্য অনুযায়ী তারেক রহমানের ৬ মাসে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতা মারা গেছেন। এদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সেগুলোর বিচার শুরুই হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভিন্নমতের রাজনীতিকদের পর্যায়ক্রমে নি:শেষ করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কারাগার এবং রাস্তা-ঘাটে কিংবা বাসা-বাড়িতে ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।

চব্বিশের কথিত আন্দোলনে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ৪ লাখের অধিক নেতা-কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার হয়েছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে শতশত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নিয়োজিতরাও কথিত হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন। অনেক সাংবাদিকের ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এখনো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকের বিরাট একটি সংখ্যাকে প্রাণের ভয়ে অথবা গ্রেফতারের আতংকে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্তরা কোটা আন্দোলনের আড়ালে চব্বিশের আগস্টের পর একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটানো হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট অপবাদ দিয়ে নিজেরাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র কায়েমের স্লোগান প্রদানকারিরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে একতরফা নির্বাচনের তামাশা করেছে।

‘বাংলাদেশ এ্যাট এ ক্রসরোড’ শীর্ষক এ রিপোর্টে এহেন অরাজক পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, গণমাধ্যমকে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া অবলম্বন, বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ তৈরী, সংখ্যালঘুদের সম-অধিকার নিশ্চিত, নারীরা যাতে অবাধে শিক্ষা লাভের পর চাকরি ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকতে পারেন তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us